আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
১৩ জুলাই, ২০২৬ রাজশাহী অঞ্চলের বিনোদন ও প্রাণিকূলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল ‘রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে যে চিড়িয়াখানাটি তার যৌবন হারিয়ে ফেলেছিল, অবশেষে সেটির সুদিন ফেরার পথ প্রশস্ত হলো। রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই চিড়িয়াখানাকে তার পূর্বের পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে আনার বড় ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি চিড়িয়াখানার বর্তমান বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
চিড়িয়াখানার সামগ্রিক অবস্থা দেখার পর এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের এই জায়গাটি অনেক সম্ভাবনাময়। কিন্তু প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি তার আকর্ষণ হারিয়েছে। আমরা একে একটি আধুনিক ও মানসম্মত চিড়িয়াখানা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। খুব দ্রুতই এর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে নিম্নলিখিত কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে,আধুনিকায়ন ও পরিবেশ উন্নয়ন,বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার পুরো এলাকাকে আরও সবুজ ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে। প্রাণীদের আবাসন ও চিকিৎসা, খাঁচা ও এনক্লোজারগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং প্রাণীদের সুচিকিৎসা ও সঠিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন করা হবে।
দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াকওয়ে, বসার স্থান এবং দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চিড়িয়াখানার বৈচিত্র্য বাড়াতে নতুন কিছু প্রাণী ও পাখি আনার বিষয়েও কাজ করা হবে। চিড়িয়াখানা সংস্কারের এই ঘোষণায় রাজশাহীর সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আজকের পরিদর্শনের পর এখন দ্রুত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।