মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং বারইখালী ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বনি।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের ভাবনা, এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভোটারদের কাছে প্রার্থীর অঙ্গীকার—এসব বিষয়ই উঠে আসে মতবিনিময় সভার আলোচনায়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম বনি তার নির্বাচনী ভাবনা ও ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, রমিজ উদ্দিন, অর্থ দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ তালুকদার, সাংবাদিক আব্দুর রহিম, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।
‘জনগণের রায়ই হবে আমার মূল শক্তি’
মতবিনিময় সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বনি বলেন, “আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। নির্বাচিত হলে বারইখালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করেই ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”
তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়; নির্বাচনের পরও জনগণের পাশে থাকা। আমি এমন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে সহজেই জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে পারবেন এবং তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে।”
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করি।
জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই নির্বাচিত করবেন। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত রায়।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে এলো উন্নয়ন ভাবনা
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা প্রার্থীর কাছে জানতে চান—নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের মানুষের জন্য তার অগ্রাধিকার কী হবে। জবাবে তিনি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব, সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা জানান।
সাইফুল ইসলাম বনি বলেন, “বারইখালী ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে বিষয়গুলো সবচেয়ে জরুরি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাজ করার চেষ্টা থাকবে।”
সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। প্রার্থীদের বক্তব্য, নির্বাচনী কার্যক্রম এবং জনগণের প্রত্যাশা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম শহিদুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংবাদিকরা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন। প্রার্থীদেরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটার—সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই সবার প্রত্যাশা।”
ভোটের মাঠে বাড়ছে প্রত্যাশা
স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি। ফলে ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, অতীত কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনের পর মানুষের পাশে থাকার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেন।
বারইখালী ইউনিয়নেও নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের প্রত্যাশাও সামনে আসছে। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। জনগণের সামনে প্রার্থীদের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণও আরও সচেতন ও তথ্যভিত্তিক হতে পারে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের একটি ক্ষেত্র তৈরি হলো। এখন দেখার বিষয়—নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।
সুষ্ঠু পরিবেশ, ভোটারদের স্বাধীন মতামত এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন—বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এ তিন বিষয়ই।