মোঃ আব্দুর রব
সিলেট বিভাগীয় প্রধান
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম বক্তব্যে নিজ নির্বাচনী এলাকার বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ৯ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ডা. জীবন মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
একইসাথে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী করায় তাঁর এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সংসদ সদস্য ডা. জীবন তাঁর নির্বাচনী এলাকার দুর্গমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার এলাকার ৬টি ইউনিয়নের মানুষকে তিনটি উপজেলা পেরিয়ে বানিয়াচং সদরে আসতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
বিশেষ করে বানিয়াচং-কাদিরগঞ্জ সড়ক, বানিয়াচং-মুরাদপুর-কুমড়ি-মন্দরী হয়ে আগুয়া সড়ক এবং আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়কের দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের শুটকি, রত্মা ও বালিখাল এলাকার বেইলি ব্রিজগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রায়ই এগুলোর নাট-বল্টু ও পাটাতন খুলে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়। তিনি এসব স্থানে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মানুষ সেবা পাচ্ছে না।
হাওরবাসীর দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এছাড়া এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. জীবন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে সংঘটিত ৯ জন নিহতের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি।
সকল দল ও ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, যার ফলে এলাকায় বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। এই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সংসদে ডা. জীবনের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ।
তাঁরা আশা করছেন, জাতীয় সংসদে এই জোরালো দাবির ফলে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে।