হাবিব(বগুড়া জেলা) প্রতিনিধি :
ছয় তলার অনুমোদনে কোথাও ১০–১২ তলা নির্মাণের অভিযোগ, অবৈধ অংশ ভাঙার প্রস্তুতি সিটি করপোরেশনের
উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর বগুড়ায় দ্রুত বাড়ছে বহুতল ভবন নির্মাণ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগ। কোথাও অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সংখ্যক তলার অনুমোদন নিয়ে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তলা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্রমেই অপরিকল্পিত ও ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে নগরীর বিভিন্ন এলাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া মহানগরীতে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবনের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বহুতল ভবন রয়েছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের জরিপে প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবনের কয়েকটির ক্ষেত্রে পৌর প্রশাসন থেকে ছয় তলা পর্যন্ত অনুমোদন নেওয়া হলেও ১০ থেকে ১২ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর তদারকির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার নড়েচড়ে বসেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন। নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবন চিহ্নিত করে অবৈধ অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া মহানগরীতে জনবসতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতাও বেড়েছে। বিলুপ্ত পৌর প্রশাসনের সময়ে প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হতো। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ভবন নির্মাণের চাহিদা ও নকশা অনুমোদনের আবেদন আরও বেড়েছে।
তবে ভবনের নকশা অনুমোদনের পর সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নির্মাণাধীন ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সুযোগে অনেক ভবন মালিক অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা বা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা আরও জানান, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা ভবনগুলোর মালিকদের ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব ভবনের অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আল মেহেদী হাসান বলেন, “নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই এসব ভবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।” তবে লোকবলের অভাবে নিয়মিত মনিটরিং করা কঠিন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, “অবৈধ ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তাও প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবৈধ ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হবে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, চিহ্নিত ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করবে সিটি করপোরেশন। এতে নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।