আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
গত ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখে নওগাঁ সদর থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও 'শয়তানের নিঃশ্বাস' প্রয়োগের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় বড় সাফল্য পেয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি নির্দেশনায় এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ দলের সমন্বিত অভিযানে এই চক্রের ৪ মূল সদস্য সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো গাইবান্ধার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের কালাম। চুরির সোনা ক্রয়ের অভিযোগে মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার জাহাঙ্গীরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্ত ও অভিযান: তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন বেলা ১১:৩০ মিনিটে নওগাঁ শহরস্থ চুরিপট্টিতে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে 'শয়তানের নিঃশ্বাস' প্রয়োগ করে অচেতন করে এবং রিকশায় তুলে নিয়ে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০০০ টাকা চুরি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় ঐ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তৎপরতার সাথে তদন্ত শুরু করে। একই দিন দুপুরে ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অন্য একটি ঘটনায় এক বয়স্ক দম্পতিকেও স্বর্ণেরবারের লোভ দেখিয়ে এবং রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে সম্মোহিত করে স্বর্ণের দুল চুরি করা হয়। এই ঘটনায়ও আলাদা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দক্ষ নেতৃত্বে এবং নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামানের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই দুটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং কঠোর গোয়েন্দা তৎপরতায় গত ২৭ জুন রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি হোটেলে একযোগে অভিযান চালানো হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে নওগাঁ রেস্টহাউজ হোটেল সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আব্দুল হাই, এরশাদ আলী, বাবলু এবং কালামকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আরও ২/৩ জন সহযোগী জড়িত বলে জানায়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় ঘটনায় চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের নিকট বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা যায়। জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করে এবং চুরি হওয়া স্বর্ণের দুলগুলো গলিয়ে ফেলেছে বলে জানায়। তার নিকট থেকে গলানো অবস্থায় ০৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আগেও চুরি ও চোরাই স্বর্ণ বেচাকেনার সাথে জড়িত ছিল। পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের এই সফল অভিযান জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ও বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন এবং সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।