August 19, 2026, 5:01 pm
শিরোনাম:
নাটোরে ডিসি-ইউএনও বদলি: কাকতালীয় নাকি নেপথ্যের কোনো বার্তা? শ্রীপুরে গহিন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে ৬ ড্রাম দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার আটক-৩ জন । নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিলে নিষিদ্ধ চাইনা রিং জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার  চুয়াডাঙ্গায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী ‘সফট স্কিলস’ প্রশিক্ষণ শুরু বিলাইছড়িতে বিকাশে ভুল নম্বরে পাঠানো টাকা পুনরুদ্বার করল পুলিশ  হোস্ট-রোহিঙ্গা সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে নাইক্যংখালীতে প্রাণবন্ত আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ নিরাময় কেন্দ্র থেকে মাদকাসক্তদের পলায়ন, এলাকায় চরম আতঙ্ক!  টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান: বিদেশি ২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার রাবেতা ধেচুয়াপালংয়ের নুর ফাতেমা ১০হাজার ইয়াবাসহ আটক। সাতক্ষীরায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

দিনদুপুরে বসতভিটা দখলের অভিযোগ, আইনি প্রতিকারের আশায় অসহায় পরিবার

Reporter Name

শোয়েব হোসেন :

 

সরকারি খতিয়ানে নাম রয়েছে, জমির নামজারি ও জমা-খারিজ সম্পন্ন, নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে ভূমি উন্নয়ন কর। রয়েছে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও। এরপরও নিজ পৈতৃক বসতভিটায় ফিরতে পারছেন না ৬০ বছরের বিধবা রোকেয়া বেগম ও তাঁর চার ছেলে। ক্ষমতাশালী একটি পক্ষের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ এনে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন তাঁরা।

 

ঘটনাটি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমুঘুয়া গ্রামের।

ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগমের চার ছেলে,মোঃ শাহীন (৪০), মোঃ মাসুম (৩৫), সাইফুল (৩২) ও মোঃ শরিফ হোসেন (২৫)। পরিবারটির অভিযোগ, নিজেদের বৈধ মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পর বর্তমানে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

প্রকাশ্য দিবালোকে দখল ও উচ্ছেদের অভিযোগ

আদালতে দাখিল করা আবেদন (নং-১৪৮/২০২৬) এবং ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী, চরমুঘুয়া মৌজার সি.এস ২০, এস.এ ২০ এবং বি.এস ২১৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত মোট ০.৩১৪ একর জমির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করছেন রোকেয়া বেগম ও তাঁর সন্তানরা।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫৯৩৯(IX-I)/২০১৫-১৬ নম্বর মোকদ্দমার সূত্রে জমিটি তাঁদের নামে নামজারি ও জমা-খারিজ করা হয়। পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত ভূমি উন্নয়ন করও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। ওই জমিতে বসতঘর ও পাকঘর নির্মাণ করে চারদিকে বেড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল পরিবারটি।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে একই গ্রামের আঃ মন্নান ওরফে মনা, আবু তাহের শরীফ, আমির হোসেন, মানিক ও ইলিয়াছসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পুরো জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।

দখলের আগে-পরে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি দখলের আগে থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। তাঁদের দাবি, এসব মামলার কয়েকটি তদন্ত শেষে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়ে নিষ্পত্তি বা খারিজ হয়েছে। এরপরও জমি থেকে উচ্ছেদের পর নতুন করে মামলা, হুমকি ও হয়রানির মাধ্যমে তাঁদের চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

পরিবারটির দাবি, জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী পক্ষ পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বাস্তব দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।

মালিকানার কাগজপত্রে ধারাবাহিকতার দাবি

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র অনুযায়ী, সি.এস ২০ নম্বর খতিয়ানের মূল মালিক চান্দ মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে মুছলিম ও মকবুল আহাম্মদ উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পান। পরবর্তী সময়ে মুছলিমের ওয়ারিশ আব্দুর রশিদের নামে বি.এস ২১৩ নম্বর খতিয়ানে ২.১০ একর জমি রেকর্ডভুক্ত হয়।

আব্দুর রশিদের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অংশের মধ্যে ০.৩১৪ একর জমি নিজেদের নামে নামজারি করেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি উন্নয়ন করও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিটির মালিকানা ও দখলের পক্ষে তাঁদের কাছে সি.এস, এস.এ ও বি.এস খতিয়ান, নামজারি-জমা-খারিজ এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথিসহ একাধিক সরকারি কাগজপত্র রয়েছে।

ভূমি অপরাধ আইনে প্রতিকার চেয়ে আবেদন

জমি দখল থেকে উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর আদালতে আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবী মোঃ সফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আমার মক্কেলদের নামে নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে বলে আমরা মনে করছি। ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় জোরপূর্বক দখলের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির দখল পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছি।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগীরা

বর্তমানে নিজের বসতভিটায় প্রবেশ করতে না পারায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন রোকেয়া বেগম ও তাঁর সন্তানরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের কারণে পরিবারটি মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ এবং অন্যান্য দলিল যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে জোরপূর্বক দখল হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বসতভিটা পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুকে আমরা