আব্দুস সামাদ, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের বামনদল গ্রামে গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (গ্যাপ) বা উত্তম কৃষি চর্চার ২৪৬টি প্রটোকল অনুসরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আমবাগান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি সহযোগিতায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই বাগানটি নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদনের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বাগানটির উদ্যোক্তা স্থানীয় কৃষক রাজন। কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে তিনি গ্যাপের ২৪৬টি প্রটোকল অনুসরণ করে বাগানটি গড়ে তুলেছেন। বাগানে উন্নতমানের চারা রোপণ, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, জৈব সার ও সুষম রাসায়নিক সার ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সেচব্যবস্থা, মালচিং, আগাছা দমন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম), ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, নিয়মিত পরিচর্যা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ এবং ফল সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাগানটি পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে উঠেছে। গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও ফলনের সম্ভাবনা দেখে আশাবাদী কৃষক এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। গ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় উৎপাদিত আম হবে অধিক নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক।
কৃষক রাজন বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় গ্যাপের সব নির্দেশনা অনুসরণ করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে এখান থেকে নিরাপদ ও উন্নতমানের আম উৎপাদন করে ভালো লাভবান হতে পারব।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানিযোগ্য মানের ফল উৎপাদনের লক্ষ্যেই গ্যাপভিত্তিক ফলবাগান সৃজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দহগ্রামের এই আমবাগান অন্য কৃষকদেরও গ্যাপ প্রযুক্তি অনুসরণে উৎসাহিত করবে এবং এ অঞ্চলে টেকসই ও নিরাপদ ফল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ফলবাগান কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কৃষি বিভাগের এ সময়োপযোগী উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।