সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টাকালে সামারুল ইসলাম (বাবু) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আটক সামারুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহেশপুর উপজেলার শামসুদ্দিন সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী মেয়েটি উক্ত বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় অভিযুক্ত সামারুল ইসলাম তাকে উত্যক্ত ও অনুসরণ করত। ঘটনার দিন ওই ছাত্রী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সামারুল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় ওই ছাত্রীর ডাক-চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
উপস্থিত জনতা তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে গাড়িটির গতিরোধ করে স্কুলছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। ধাওয়া খেয়ে তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মূল অভিযুক্ত সামারুল ইসলাম বাবু জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘটনাস্থলেই গণধোলাই (উত্তম মাধ্যম) দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে থানায় খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সামারুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মহেশপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। গণধোলাইয়ে আহত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।