ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি: সুবর্ণ বিশ্বাস ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উৎসব ১৬ প্রহর ব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গণে এই ধর্মীয় মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। মহামন্ত্র জপ ও ধর্মীয় ভাবধারায় মুখরিত এই অনুষ্ঠানে হাজারো ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
উক্ত মহোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সদর উপজেলা বিএনপি’র সম্মানিত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন আলম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল খালেক সহ গান্না ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবীণ ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির বার্তা
অনুষ্ঠানের শুরুতে মহানাম যজ্ঞের সফল সমাপ্তি ও বিশ্বকল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু বলেন, "বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী।" তিনি আয়োজকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং এ ধরনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মত প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আলমগীর হোসেন আলম বলেন, "সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন দৃঢ় করে। মাধবপুর সার্বজনীন পূজা মন্দিরের এই মহানাম যজ্ঞ এলাকার মানুষের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বাড়িয়ে তুলবে।"
ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়
১৬ প্রহর ব্যাপী এই তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞে হরিনাম সংকীর্ত্তন শুনতে ও অংশ নিতে ঝিনাইদহ সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত ভক্ত ও পুণ্যার্থী মাধবপুর সার্বজনীন পূজা মন্দিরে সমবেত হন। মহোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।