নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ- মোঃ কাওসার আহমেদ
জমির ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নাটোরের গুরুদাসপুরের ভুক্তভোগী গার্মেন্টস শ্রমিক মো. মাসুদ রানা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ নাটোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ সকাল ৮টার দিকে বিবাদীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ রানার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় বিবাদীরা জমিতে বপন করা ফসল সম্পূর্ণ ধ্বংস করে এবং জমিতে ক্ষতিকারক কীটনাশক প্রয়োগ করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গুরুদাসপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া
দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বাদী ও তার পরিবার চরম হতাশায় ছিলেন। মামলার পর থেকেই বিবাদীদের পক্ষ থেকে সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান এবং জুয়েল রানা। আদালত কক্ষে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের কঠোর জেরা করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীর প্রত্যাশা
সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মাসুদ রানা ও তার পরিবার। তারা ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেছেন। ভুক্তভোগীর প্রত্যাশা, খুব দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।
পরবর্তী তারিখ
আজকের কার্যক্রম শেষে আদালত আগামী ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা ও তার পরিবার।