জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
৪৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নিজ জন্মভূমি জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন ডা. জয়নাল আবেদীন। আজ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) তাঁর প্রথম কর্মদিবসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করে বলেন, “জকিগঞ্জের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”যোগদানকালে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, “বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছে জন্মভূমির এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দেশ, মাটি ও মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার নিয়েই ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে সৌভাগ্যের বিষয় হলো, প্রথম পোস্টিংয়েই নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি।”প্রথম কর্মদিবসে তাঁকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল অভিনন্দন জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় 'স্বপ্ন সিঁড়ি সাংস্কৃতিক পরিষদ'-এর পক্ষ থেকেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বপ্ন সিঁড়ি সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি ডা. হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, জেড টিভি'র নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুস শহীদ শাকির এবং আল ইহসান একাডেমির প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ।অনুষ্ঠানে স্বপ্ন সিঁড়ি সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি ডা. হাবিবুল্লাহ মিসবাহ বলেন, “জকিগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত ও চাহিদাসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। চিকিৎসা সংকট নিয়ে আমরা দীর্ঘ আন্দোলনও করেছি। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ডা. জয়নাল আবেদীন জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন পেয়েছেন। তিনি আমাদেরই সন্তান, আমরা আশা করি তাঁর হাত ধরেই জকিগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে এবং সাধারণ ও অসহায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাবে।”
ডা. জয়নাল আবেদীন জকিগঞ্জ উপজেলার ঈদগাহ বাজার এলাকার কাপনা- ধলিগাও গ্রামের মো. রইস উদ্দিনের তৃতীয় পুত্র। তিনি স্থানীয় ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা ডা. জয়নাল আবেদীন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্যের পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।বিশেষ করে, অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে বিশেষ স্বীকৃতিপত্র লাভ করেন তিনি।চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি লেখালেখির জগতেও ডা. জয়নাল আবেদীনের রয়েছে স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল পরিচয়। সমসাময়িক বিষয়ে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ইতোমধ্যে পাঠকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তরুণ পাঠকদের মাঝে তাঁর রচিত উপন্যাস ‘শিকল’ ও ‘বিভ্রম’ বেশ সমাদৃত হয়েছে। এ পর্যন্ত তাঁর মোট ৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বই লেখার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকের চিত্রনাট্য রচনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।