চাঁদা না পেয়ে ভেকু ব্যবসায়ীর ওপর সশস্ত্র হামলা: গোদাগাড়ীতে চাঞ্চল্য, আদালতে মামলা:
আজিজুর ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসার সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জলাহার গ্রামে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মোঃ কামরুজ্জামান (৩০)। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এলাকায় ট্রাক্টর ও স্কেভেটর (ভেকু) ব্যবসার সাথে জড়িত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে জলাহার গ্রামে কামরুজ্জামানের একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছিল। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবক মোঃ মুরসালিন মুসা (২৭) ও তার সহযোগীরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ পায় গত ৪ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত রাতে। রাত ১২টা ২৪ মিনিটে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসামি মুসা। এই হুমকির অডিও রেকর্ডটি এখন ভুক্তভোগীর কাছে সংরক্ষিত আছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই রাতেই ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মুরসালিন মুসা এবং তার ৫-৬ জন সশস্ত্র সহযোগী অতর্কিতে খননস্থলে হাজির হয়। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বন্ধ করে দেওয়া হয় খনন কাজ। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে ঘিরে ফেলে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও দম্ভোক্তি করে সন্ত্রাসীরা। চালক তৌহিদ ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান জানান,ঘটনার পর আমি ন্যায়বিচারের আশায় গোদাগাড়ী থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু থানা থেকে আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। থানায় আইনি সহায়তা না পেয়ে আমার বেশ কিছু সময় নষ্ট হয়েছে, যা সন্ত্রাসীদের আরও সাহসী করে তুলেছে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, দণ্ডবিধির ৩৮৫ (চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং ৫০৬ (২) (প্রাণনাশের হুমকি) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অডিও রেকর্ডসহ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকায় আদালত মামলাটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে ব্যবসা বন্ধ ও চাঁদা দাবির মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা কাজ করার সাহস হারাবেন।
আদালত এখন পর্যন্ত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।