নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটন, রাষ্ট্রের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। অথচ বর্তমান সময়ের সংবাদমাধ্যমে কখনো কখনো এর উল্টো চিত্রও দেখা যায়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংকটের চেয়ে বিনোদন জগতের তারকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি প্রচারে গণমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যস্ততা অনেক সময় সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তবে এই ভিড়েও দেশের সচেতন ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজ সবসময় জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীদের এই ইতিবাচক প্রয়াসই সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার।
উপেক্ষিত জনস্বার্থ ও আসল সমস্যা
দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার নানা ত্রুটি এবং সামাজিক অনিয়ম—এসব বিষয়ই মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। দেশের প্রকৃত সাংবাদিকরা এই সংকটগুলো তুলে ধরতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। গণমাধ্যমের শক্তি ও সময় যখন এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যার গভীর অনুসন্ধানে ব্যয় হয়, তখন নীতিনির্ধারক মহলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল পায়।
বিতর্কিত মডেল ও কথিত হিরোইনদের প্রতি স্পষ্ট সতর্কবার্তা
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরীমণির মতো কিছু বিতর্কিত মডেল বা কথিত হিরোইনরা নিজেদের খবরের শিরোনামে রাখতে এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে নানা ধরনের নাটকীয়তা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশ কখনো কখনো অসচেতনভাবে এদের ব্যক্তিগত জীবন বা প্রোপাগান্ডাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করায় সমাজের তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয়।
এখন সময় এসেছে এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের কঠোরভাবে সতর্ক করার। গণমাধ্যম কোনো সস্তা প্রচারের প্ল্যাটফর্ম নয়। সুতরাং, ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে চান, তাদের অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড বর্জন করা এবং তাদের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করা সময়ের দাবি।
সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা ও পেশাগত সততা
আজ সময় এসেছে এই পুরো পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার। একজন সাংবাদিক মাঠে কতটুকু বড় বা ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেটি বড় কথা নয়; বড় কথা হলো তিনি একজন সাংবাদিক—একটি মহৎ ও দায়িত্বশীল পেশার বাহক। সস্তা জনপ্রিয়তা কিংবা কিছু অন্ধ আকর্ষণের মোহে নিজের পেশাকে ছোট করা বা সস্তা মানুষের কাছে নিজেকে সস্তায় বিক্রি করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার্থে আজ প্রতিটি সংবাদকর্মীর আত্মউপলব্ধি প্রয়োজন। সস্তা ও ভিত্তিহীন খবরের পেছনে না ছুটে, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।
সাংবাদিক ভাইদের ইতিবাচক ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা
হলুদ সাংবাদিকতা বা অতি-ব্যক্তিগত বিষয়ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের ভিড়ে দেশের প্রকৃত সাংবাদিক ভাইয়েরা সব সময়ই সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সংবাদকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য।
সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা বজায় রাখাই এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেনসেশনের মোহ ত্যাগ করে যারা সত্যের পক্ষে কলম ধরেছেন, সেই সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বই আজ সমাজকে সঠিক পথ দেখাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সেই ইতিবাচক সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করার—যেখানে বিনোদনের নামে কোনো বিতর্কিত চরিত্র নয়, বরং জনকল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই হবে গণমাধ্যমের মূল শিরোনাম।