আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
মান্দা (নওগাঁ) ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের দানবাক্সগুলো যেন রূপ নিয়েছে এক ছোটখাটো ‘বিস্ময়ের ভাণ্ডারে’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলার পর সেখানে দেখা গেছে টাকার পাহাড়। শুধু দেশি নোটই নয়, পাওয়া গেছে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রাও।
সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) দিনব্যাপী মসজিদের বড় ও ছোট মিলে মোট ১৫টি দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ ও মালামাল গণনার কাজ শেষ হয়। এতে সর্বমোট ৯ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭৮৪ টাকা পাওয়া গেছে বলে আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল তা জনগণের মাঝে ঘোষণা করা হয়।
টাকার সাথে সোনা ও ডলারের চমক মসজিদ কমিটির সূত্র মতে, প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর এই দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ১টি বড় এবং ১৪টি ছোট দানবাক্স থেকে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে। তবে শুধু নগদ টাকাই নয়, এবার ভক্তদের দেওয়া দানের মধ্যে থেকে পাওয়া গেছে:
একটি রুপার আংটি ২টি সোনার নাকফুল বেশ কিছু বৈদেশিক ডলার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় গণনা কাজ মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই গণনার কাজ সম্পন্ন হয়।
মসজিদের মেঝের বিশাল অংশে চাদর বিছিয়ে দিনভর চলে টাকা গণনার মহোৎসব। এ সময় মসজিদ কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শত শত মানুষের কৌতূহলী ভিড় সামলাতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য এই বিপুল পরিমাণ দানের বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী বলেন, কুসুম্বা মসজিদ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান একটি পর্যটন ও ধর্মীয় তীর্থস্থান। এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। তাদের দেওয়া দানের টাকা স্বচ্ছতার সাথে গণনা করা হয়েছে। সংগৃহীত এই অর্থ মসজিদের সংস্কার কাজ, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনশ্রুতি আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত কুসুম্বা মসজিদটি কালা পাহাড়' নামেও পরিচিত। জনশ্রুতি আছে, এই মসজিদে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয় এমন বিশ্বাস থেকেই মানুষ এখানে অকাতরে দান করেন।
বিশেষ করে শুক্রবার এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে এই ভিড় বহুগুণ বেড়ে যায়। দানবাক্সে সোনার গয়না বা বিদেশি মুদ্রা পাওয়া এই বিশ্বাসের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে সংগৃহীত সকল অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।