নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে ঘটা এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, খোদ একজন সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধি যদি পুলিশি সুরক্ষার ভেতরেও নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয়রাস্তার মোড় এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সেখানে গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল। ওই সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা নিজের গাড়িতে করে শহরের মোড় অতিক্রম করে তাঁর বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এমপির গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের একাধিক গাড়ি থাকা সত্ত্বেও আকস্মিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনের কাচ ও বডি ভেঙে যায়। এই আকস্মিক হামলায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ছয় থেকে দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন:
ঘটনার পর থেকেই কুষ্টিয়ার সচেতন মহলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের প্রশ্ন—এমপির গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশি পাহারার গাড়ি থাকার পরও যদি এমন প্রকাশ্য হামলা ঠেকানো না যায়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলার ঘটনা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।
আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা:
এদিকে হামলার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য আমির হামজা ও তাঁর দল এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর আইনগত প্রতিকার চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল মামলা দায়ের বা দায়সারা আইনি পদক্ষেপেই এই আস্থার সংকট কাটবে না। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে হলে এই ন্যক্কারজনক হামলার পেছনে থাকা মূল উসকানিদাতা ও জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কুষ্টিয়ার মতো জনবহুল শহরে এ ধরনের নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।