আব্দুস সামাদ, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মমিনপূর ডাঙ্গিরপারে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ব্যায়ে পাইপ বসানোর রয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ময়লা আটকে রাখার জন্য নির্মিত স্টেশন ফিট (সকেল) একাধিক স্থানে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইনের নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর নির্মাণ করা স্টেশন ফিটগুলোর নির্মাণমান অত্যন্ত নিম্নমানের। উদ্বোধনের আগেই কয়েকটি স্টেশন ফিটের চারপাশের কংক্রিট ভেঙে গেছে। এছাড়া পাইপের মুখে কোনো নেট বা গ্রিল বসানো হয়নি। ফলে ময়লা-আবর্জনা সরাসরি পাইপের ভেতরে প্রবেশ করে পাইপ জ্যাম হয়ে যেতে পারে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে আবারও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পাইপ বসানোর সময় প্রবেশমুখ (ইনলেট) ও অপসারণমুখ (আউটলেট)-এর উচ্চতা ও ঢালের সঠিক সমন্বয় না রাখায় পাইপের মাঝখানে পানি জমে থাকছে।
ফলে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পাইপে পলি ও ময়লা জমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।আরও অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির সামনে নির্মিত স্টেশন ফিটগুলো খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। কোনো ঢাকনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও পথচারীদের জন্য এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা জানান, যে কোনো সময় অসাবধানতাবশত কেউ এসব খোলা গর্তে পড়ে আহত হতে পারেন।এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জানান, আপনাদের কাছে শুনলাম দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। জোংড়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলেমান আলী জানান, কাজের মান অত্যান্ত ভাল হয়েছে।
এসব অভিযোগ মিথ্যা।এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের কাজ তদন্ত করে মানসম্মতভাবে পুনরায় সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশন ফিটে টেকসই ঢাকনা ও পাইপের মুখে নেট বা গ্রিল স্থাপন করে ময়লা প্রবেশ রোধের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল হয় এবং জনদুর্ভোগ না বাড়ে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।