
দ্রুতই সমাধান হতে যাচ্ছে সিলেট বিভাগের অহংকার ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের রহস্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গতকাল নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।
তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বনানী থেকে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের আগে ১৪ এপ্রিল সিলেটের দুই ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ দিনার ও জুনায়েদকে অপহরণ করা হয়। এই দুই ঘটনার মধ্যে গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। ঘটনার রাতে ব্যবহৃত ৮টি টেলিফোন কলের সিডিআর রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সে রাতে ইলিয়াস আলীকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিজিএফআই-এর তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে র্যাব-১ এই অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় ডিজিএফআই-এর দুজন মেজর সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এছাড়াও মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষ্য থেকেও ইলিয়াস আলীর গুম সংক্রান্ত এভিডেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিলেটবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ প্রিয় নেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সিলেটবাসী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। ইলিয়াস আলীর পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী করার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ কনস্ট্রাকটিভ রিপোর্ট সাবমিট করার আশাবাদ ব্যক্ত করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হব।" এদিকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই দাবি—জননেতা এম ইলিয়াস আলীকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই।